ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ ফাল্গুন ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান



চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান

বাণিজ্যিক রাজধানী, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং বন্দরনগরী নামগুলো অনেক আগে থেকেই চট্টগ্রামের নামকে বাড়তি সৌন্দর্য দিয়ে এসেছে। পাহাড়, সাগর আর অসাধারণ নিজস্ব সংস্কৃতির মিশেলে চট্টগ্রাম হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম দর্শনীয় এবং ঐতিহাসিক অঞ্চল। মাস্টার দা সূর্যসেন, প্রীতিলতার মত দেশপ্রেমিক যেমন এ মাটি জন্ম দিয়েছে, তেমনই জন্ম দিয়েছে নোবেলজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুসের মত মানুষকে।

বর্ণিল এই জেলায় খাদ্যের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। বনফুল বা ফুলকলির মত প্রতিষ্ঠানেরও জন্ম এই চট্টগ্রামে। ভোজনরসিক মানুষের জন্য চট্টগ্রাম তাই অন্যরকম আবেদন নিয়ে আসে। ঐতিহ্যগত ভাবে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত খাবার অবশ্যই মেজবানি মাংস। মেজবানের জন্য চট্টগ্রাম বলতে গেলে সারা বিশ্বেই নাম করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বেশ কিছু ফুড ব্লগে উঠে এসেছে।

মেজবান কি?

সত্যিকার অর্থে মেজবান অর্থ যিনি অতিথি আপ্যায়ন করেন। ফার্সি শব্দে মেহমান অর্থ অতিথি। আর যিনি অতিথি আপ্যায়ন করেন তিনিই মেজবান। তবে বর্তমানে মেজবান মানে বিশেষ উপায়ে অতিথি আপ্যায়ন করা। সাধারণত মেজবান আয়োজনে বেশ কিছু উপলক্ষ থাকে। সাধারণত জন্মদিন, মৃত্যুর পর কুলখানি, মৃত্যুবার্ষিকী এসব ক্ষেত্রেই মেজবানের আয়োজন হয় বেশি।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ অনুষ্ঠানেও মেজবান আয়োজন দেখা যায়। যুগের বদল হলেও চট্টগ্রামের মানুষ এই মেজবান সংস্কৃতি আজও ধরে রেখেছে। এখনও মেজবান মানেই চট্টগ্রামে বিশাল এক উৎসব। মেজবানে মূলত গরু মাংসের বেশ কিছু পদ করা হয়। অবশ্যই ঝাল মাংসের ঝোল সহকারে একটি পদ থাকে। এছাড়া থাকে মাংসের কালাভুনা। এখানে মাংসকে পেঁয়াজ এবং অন্যান্য মশলা দিয়ে একেবারে ভুনা করে নেয়া হয়। এছাড়া হাড়যুক্ত মাংসকে আলাদাভাবে ডাল দিয়ে রান্না করা হয়। এছাড়া আলাদাভাবে থাকে গরুর পায়া।

মেজবানি রান্না কেন আলাদা?

মেজবানি মাংস আলাদা হবার প্রধানতম কারণ এর রন্ধনপ্রণালী। ঠিক কে কবে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন তা জানা না গেলেও এই রান্নার পদ্ধতিই আজ অব্দি চলে আসছে। যারা মেজবানি রান্নার পদ্ধতি জানেন, চট্টগ্রামের বাবুর্চি সমাজে তাদের কদর আলাদা। এবং তাদেরকে বেশ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয়ে থাকে। এই রান্নার অনেক বাবুর্চি প্রায় শয়ের ওপর মশলা ব্যবহার করেন বলেও জনশ্রুতি আছে। শ'খানেক মসলা না হলেও প্রচলিত মসলার বাইরেও অনেক কিছুই এতে ব্যবহার করা হয়। যেমন : আস্ত জিরা, সাদা সরিষা, ধনিয়া, মৌরি, শুকনা মরিচ, মেথি, জয়ত্রী, জয়ফল, পোস্তদানা ইত্যাদি।

বর্তমানে ইন্টারনেটে মেজবানি মাংসের বিভিন্ন রেসিপি বা রন্ধনপ্রণালী পাওয়া গেলেও এর আদি এবং অকৃত্রিম স্বাদ পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখতেই হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আপনি চাইলেই যেকোনো মেজবানের আসরেই হাজির হতে পারেন। মেজবান এমন এক প্রথা যেখানে আয়োজক কখনোই অতিথি সংখ্যা হিসেব করতে পারবেন না। মেজবানি মাংস ছাড়াও চট্টগ্রামে আরও অনেক খাবারই আপনাকে মুগ্ধ করবে।


   আরও সংবাদ