
আর্জেন্টিনা — নামটি শুনলেই মনে পড়ে পৃথিবীর এক অতুলনীয় ভ্রমণ গন্তব্যের ছবি। বিশাল আন্ডিস পর্বতমালা, প্যাটাগোনিয়ার বরফে ঢাকা সমতল, এবং হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া নীল জলরাশির দৃশ্য একবার দেখে মন ছাড়া মুশকিল। এই দেশে ফিরতে ফিরতে ২৬ দিন কাটিয়ে আমি অনুভব করেছি, এটি শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ নয় — এটি এক অনুভূতির যাত্রা।
প্যাটাগোনিয়া সব ভ্রমণকারীর স্বপ্নের মতো এক স্থান — যেখানে বিশাল শিলাগিরিগুলি যেন ধীরে ধীরে সময়ের আগ্রাসনকে টক্কর দেয়। এল ক্যালাফাটে থেকে আপনি পেরিটো মোরেনো গ্লেসিয়ার-এর কাছে পৌঁছতে পারেন — যা এক অনবদ্য প্রাকৃতিক বিস্ময় এবং এখানে বরফ ভাঙার গর্জন মানবের আত্মায় এক অদ্ভুত নীরবতা জাগায়।
বুয়েনোস আইরেস — আর্জেন্টিনার প্রাণকেন্দ্র — এখানে ট্যাঙ্গো, ফুটবল, উন্নত কফি সংস্কৃতি এবং স্প্যানিশী খাওয়া-দাওয়ার আনন্দ একসাথে উপভোগ করা যায়। শহরের ঐতিহাসিক স্থাপত্য থেকে শুরু করে মেসা ডি লা ফ্লোরেসের রঙিন বাজার — সবকিছুই ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে।
মেন্ডোজার ওয়াইন অঞ্চল থেকে শুরু করে আন্ডিস পর্বতমালার আনাচে কানাচে, আর্জেন্টিনা ভিন্ন ভিন্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেয়। ইগুয়াজু জলপ্রপাতের ঝর্ণাধারা, পাইনাভালিত লেক ও মুক্ত প্রকৃতির হাতছানি সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইডের মতো।
২০২৪–২০২৬ সালের পর্যটন বৃদ্ধির সাথে সাথে আর্জেন্টিনা আবার বিশ্বের পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস সরাসরি বা সহজ সংযোগ দিয়ে এই দেশে যাতায়াতকে আরও সুবিধাজনক করছে এবং পর্যটন শিল্পকে পুনরায় শক্তিশালী করছে।
বাংলাদেশ থেকে গেলে আজও সরাসরি আবেদন না করে ট্রানজিট ভিসা নিয়ে আবেদন করতে হতে পারে, এবং কিছু ভ্রমণ কাগজপত্র আগেই ঠিক করে নেওয়া উচিত। সঠিক ভিসা, বাজেট পরিকল্পনা ও চিকিৎসা কভারেজ নিয়ে ভ্রমণকে আরও সহজ করা যায়।
আর্জেন্টিনা কেবল বরফের দেশে একটি ভ্রমণ নয় — এটি একটি অনুভূতির যাত্রা। বরফ, পাহাড়, শহর, সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতা আপনাকে বারবার ফিরে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। এই দেশটি একবার দেখে গেলে মনে থাকে শুধু একটাই বিশ্বাস — ‘আবার দেখা হবে’।
উপদেষ্টা সম্পাদক-সালাম মাহমুদ
সম্পাদক- এ কে এম জুনাইদ
Copyright © 2026 Tourism News 24. All rights reserved.